ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম এবং সুদ, অফার ও সুবিধা।

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম

বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ওয়ালটন। অনেকেই মোবাইল ফোন কিস্তিতে ক্রয় করতে চায়। এই লেখাটিতে ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

আপনার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে নগদ অর্থ না থাকলেও, ওয়াল্টন থেকে একটি মোবাইল ফোন ক্রয় করতে পারবেন। বর্তমানে ব্যবহারকারীদের জন্য ওয়ালটন এই সুবিধা দিচ্ছে। ওয়ালটনের আউটলেট থেকে খুব সহজ শর্তে কিস্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোন ক্রয় করতে পারবেন।

চলুন ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম এবং কি কি শর্তাবলী রয়েছে, ইন্টারেস্ট রেট কত পার্সেন্ট, কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

কিস্তিতে কারা ওয়ালটন মোবাইল নিতে পারবে

যেকোনো পেশার মানুষ ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে মোবাইল ফোন ক্রয় করতে পারবে। যেমন: ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কৃষক, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী থেকে সর্বস্তরের মানুষ। তবে কিস্তিতে ওয়ালটন প্লাজা থেকে মোবাইল ফোন ক্রয় করার জন্য অবশ্যই একজন অথবা দুইজন গ্যারান্টার লাগবে।

ওয়ালটন কোম্পানি তাদের এই সেবাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস প্রদান করে এবং তাদের শর্তাবলী সাথে একমত পোষণ করে যেকোনো পেশার মানুষ ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে মোবাইল ফোন নিতে পারবে।

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার শর্ত ও ডকুমেন্টস

চলুন ওয়ালটন কর্তৃক প্রদত্ত শর্তগুলো জেনে নেইঃ

  • সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা বা তার অধিক মূল্যের মোবাইল ক্রয়ে EMI সুবিধা থাকবে। এর কম মূল্যের মোবাইল ফোনে এই সুবিধা থাকবে না।
  • ক্রেতার জাতীয় পরিচয় পত্র (NID)-র ১টি ফটোকপি।
  • ক্রেতার ২ কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • ২ জন গ্যারান্টারের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং তাদের ছবি প্রয়োজন।
  • ক্রেতার বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • ক্রেতা মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।
  • মোবাইলের সর্বমোট দামের ৪০% আগে পেমেন্ট (ডাউন পেমেন্ট) করতে হবে।
  • বাকি ৬০% নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
  • Walton প্লাজা কর্তৃক প্রদত্ত ফরম সঠিকভাবে পূরণ করে জমা দিতে হবে।

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার জন্য প্রথমে আপনাকে নিকটস্থ Walton প্লাজায় গিয়ে ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ম্যানেজারকে কিস্তির বিষয়ে বললে আপনাকে একটি ফরম প্রদান করবে। সঠিক তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দিয়ে মোবাইল নিতে পারবেন।

চলুন প্রক্রিয়াটি স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নেইঃ

  1. প্রথমে আপনার নিকটস্থ ওয়ালটন প্লাজায় যান।
  2. কিস্তিতে মোবাইল কেনার বিষয়ে ম্যানেজারের সাথে আলোচনা করুন।
  3. ম্যানেজার আপনাকে একটি ফরম দিবে, সঠিকভাবে সঠিক তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করুন।
  4. তারপরে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সহ ফর্মটি ম্যানেজারের কাছে জমা দিন।
  5. ফরম পূরণের ক্ষেত্রে দুইজন গ্যারান্টার এর স্বাক্ষর এবং তাদের ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে।
  6. যদি অনলাইনে আবেদন করে থাকেন সেক্ষেত্রে আবেদন কপি জমা দিন।
  7. ম্যানেজার আপনার দেওয়া তথ্য ও ডকুমেন্টস ভেরিফাই করে যদি আবেদনটি মঞ্জুর করে সেক্ষেত্রে মোবাইল ফোনটি আপনার ঠিকানায় ডেলিভারি করা হবে।

বিঃ দ্রঃ ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার চাইলে আপনার কিস্তির আবেদনটি বাতিল করতে পারে।

কিস্তির বিষয়ে যে কোন তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন, ওয়ালটনের হটলাইন নাম্বার ১৬২৬৭ বা ০৯৬১২৩১৬২৬৭।

EMI পদ্ধতিতে ইন্টারেস্ট কত পার্সেন্ট

বর্তমানে খুব সহজেই ইএমআই পদ্ধতিতে ওয়ালটন থেকে কিস্তিতে মোবাইল কিনতে পারবেন। EMI ব্যবহার করে মোবাইল নিলে ১ বছর তথা ১২ মাস পর্যন্ত ০% ইন্টারেস্ট সুবিধা পাবেন। ইএমআই পদ্ধতিতে খুব সহজে কোন প্রকার সুদ প্রদান ছাড়াই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্খিত ওয়ালটন কোম্পানির মোবাইল ফোনটি।

ওয়ালটনের সব থেকে দামি মোবাইল

সর্বশেষ আপডেট পর্যন্ত ওয়ালটন ব্র্যান্ডের সব থেকে দামি মোবাইল XANON X91 মডেলের এটি। 28 February, 2025 সালে সর্বপ্রথম লঞ্চ হয়। XANON X91 মোবাইল ফোনটিতে থাকছে 24 GB RAM এবং 256 GB ইন্টারনাল মেমরি।

আরো থাকছে 64 MP প্রাইমারি ক্যামেরা এবং 32 MP সেলফি ক্যামেরা। 5000 mAh, Li-Poly (Lithium Polymer) নন রিমুভাল ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। 33W wired কুইক চার্জিং এর সাথে USB Type-C 2.0 সিস্টেম রয়েছে।

মোবাইল ফোনটিতে AMOLED 6.7 inches ডিসপ্লে রয়েছে এবং Mediatek Helio G100 SoC টিপসেট দ্বারা পরিচালিত। বর্তমানে ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড v14 অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে। এই মোবাইল ফোনটির অফিসিয়াল মূল্য মাত্র ৩০,৯৯৯ টাকা।

ওয়ালটনের কি কি পণ্য আছে

বর্তমানে ওয়ালটন কোম্পানি ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি আরো অনেক ধরনের পণ্য বাজারে নিয়ে এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটর এন্ড ফ্রিজার, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, কম্প্রেসার, কম্পিউটার, ওয়ালটন মোটরসাইকেল সহ আরো অনেক কিছু।

ওয়ালটনের সবথেকে বেশি বিক্রিত পণ্য হচ্ছে রেফ্রিজারেটর এন্ড ফ্রিজার। যা বাংলাদেশের মার্কেটে ওয়ালটনকে অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এছাড়াও ওয়ালটন সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের এয়ার কন্ডিশনার (AC) দিয়ে বাজারের শীর্ষস্থানে রয়েছে।

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তির সময়কাল ও সুবিধা

বর্তমানে ওয়ালটন তাদের পণ্যর সর্বনিম্ন ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কিস্তির সুবিধা দিচ্ছে। এছাড়াও ওয়ালটনের মোবাইল ফোন কিস্তিতে নিলে পাচ্ছেন আরো অনেক ধরনের সুবিধা। চলুন জেনে নেইঃ

  • কিছু পণ্যে ১০% থেকে ডাউন পেমেন্ট শুরু হয়।
  • কিস্তি চলাকালীন সময়ের মধ্যে যদি ক্রেতা মারা যায় সেক্ষেত্রে বাকি টাকা মওকুফ করে দেওয়া হয় এবং ওয়ালটন ফ্যামিলির সদস্য হিসেবে ক্রেতার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
  • শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ালটনের পক্ষ থেকে ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল কিস্তির ক্ষেত্রে স্পেশাল সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১২ মাস পর্যন্ত ০% ইন্টারেস্ট সুবিধা পাবেন।
  • এছাড়াও ওয়ালটন কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।

ওয়ালটন মোবাইলের মাধ্যমে কিস্তি পরিশোধের সুবিধা

আপনি ওয়ালটন মোবাইল ফোনের কিস্তি অনেক গুলো মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন। আপনাদের সুবিধার্থে কয়েকটি মাধ্যম নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • ক্যাশ পেমেন্ট: নিকটস্থ ওয়ালটন প্লাজায় গিয়ে কিস্তির টাকা জমা দিতে পারবেন।
  • নগদ/রকেট: নগদ অথবা রকেট ব্যবহার করে কিস্তির টাকা জমা দিতে পারবেন।

বিকাশ: বিকাশে থাকছে এক্সট্রা খাতির। বিকাশের “Pay Bill” অপশনে গিয়ে ওয়ালটন প্লাজা সিলেক্ট করে মাত্র ১% সার্ভিস চার্জে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

ওয়ালটন প্লাজা কি

ওয়ালটন প্লাজা বলতে বোঝানো হয় ওয়ালটনের নিকটস্থ আউটলেট। তথা ওয়ালটন প্রদত্ত শোরুম, যেখানে ওয়ালটন কোম্পানি সকল পণ্য পাওয়া যায়। সর্বপ্রথম নেত্রকোনায় ২০২১ সালে ওয়ালটন প্লাজা চালু করা হয়। এখন প্রায় দেশের প্রতিটি উপজেলা শহরে ওয়ালটন প্লাজা/আউটলেট রয়েছে।

ওয়ালটন প্লাজা শুরু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের কিস্তির মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার। এই উদ্যোগে তারা শতভাগ সফল। এছাড়াও ওয়ালটন প্লাজা থেকে সরাসরি যেকোনো পণ্য দেখে ক্রয় করার সুযোগ তো রয়েছেই।

শেষ কথা

সম্মানিত পাঠক, আশাকরি ওয়ালটন মোবাইল কিস্তিতে কেনার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনার হাতে যদি কিছু টাকার শর্ট থাকে এবং আপনার পছন্দের মোবাইল ফোন কিনতে না পারেন, সেক্ষেত্রে ওয়ালটনের কিস্তি সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারেন।

ওয়ালটন ব্র্যান্ডের যে কোন মোবাইল ফোন (১০ হাজার টাকার উপরে মূল্য) খুব সহজ শর্তে এবং মাত্র ৪০% ডাউন পেমেন্ট এর মাধ্যমে কিস্তিতে নিতে পারেন। এছাড়াও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য তো বিশেষ সুবিধা থাকছে।

FAQs

মোবাইল কিস্তি নেওয়ার জন্য কি কোনো ফি লাগে?

হ্যাঁ, সামান্য কিছু টাকা সার্ভিস চার্জ প্রয়োজন হতে পারে। তবে ম্যানেজার চাইলে সার্ভিস চার্জ মওকুফ করা সম্ভব।

ওয়ালটন মোবাইল কিস্তি নেওয়ার জন্য কি বিশেষ অফার আছে?

বিশেষ দিন তথা ঈদ, পূজা উপলক্ষে ওয়ালটন বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রাহকদের বিশেষ অফার দিয়ে থাকে। এ সম্বন্ধে জানতে আপনারা ওয়ালটনের ফেসবুক পেইজে ফলো করে রাখতে পারেন।

অন্যান্য আর্টিকেল সমূহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *