ফুটবল খেলার নিয়ম সব একসাথে জানুন

ফুটবল খেলার নিয়ম

ফুটবল বর্তমানে সব থেকে জনপ্রিয় খেলা। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের ফুটবল খেলার নিয়ম চালু আছে। এছাড়াও বাংলাদেশের মানুষের পছন্দের তালিকায় ফুটবল সবার শীর্ষে। আপনি যদি ফুটবল খেলার নিয়ম কানুন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।

এই লেখাটিতে আমরা ফুটবল খেলার সঠিক নিয়ম ও সকল পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ফুটবল খেলতে এবং ফুটবল খেলা দেখতে কমবেশি সকলেই ভালোবাসেন। কিন্তু যদি আপনি ফুটবল খেলার সম্পূর্ণ নিয়ম-কানুন না জানেন তাহলে ফুটবলের আসল মজা উপভোগ করতে পারবেন না।

ফুটবল খেলার নিয়ম

সাধারণত একটি ফুটবল ম্যাচে ২টি দল অংশগ্রহণ করে। এবং নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ম্যাচের মধ্যে সকল নিয়ম-কানুন মেনে যে দল সব থেকে বেশি গোল করতে পারবে তারা বিজয়ী হবে।

একটি ফুটবল দলে মোট ১১ জন খেলোয়াড় মাঠে লড়াই করে। খেলা চলাকালীন অবস্থায় দুই দলের মোট ২২ জন খেলোয়াড় মাঠে অবস্থান করবে। এবং খেলাটি পরিচালনা করার জন্য মাঠের মধ্যে ১ জন রেফারি থাকবে। রেফারির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয়।

খেলা শুরুতে টসের মাধ্যমে বিজয়ী দল পছন্দের বার (গোল পোস্ট) নির্ধারণ করবে। এবং কিক অফ পয়েন্টে বল বসানোর পরে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় প্রথম শট নিবে। এছাড়া প্রতিটি গোল হওয়ার পরে বিপক্ষ দলের স্ট্রাইকার প্রথম শট নেবে। এর মধ্য দিয়ে খেলা শুরু হবে।

এভাবে খেলা শুরু হলেও ফুটবল খেলার মাঝে আরো অনেক ধরনের নিয়মাবলী রয়েছে। ফুটবল খেলার কয়েকটি নিয়ম সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কর্নার কিকঃ ডিফেন্ডিং দলের খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বা স্পর্শ করে যদি বল গোল লাইনের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে যায় তাহলে বিপক্ষ দলকে কর্নার কিক দেওয়া হয়। মাঠের যে সাইড থেকে বল বাইরে যাবে, ওই সাইড থেকে কর্নার কিক নিতে হবে।

ফাউলঃ ফাউল অর্থ বোঝানো হয় নিয়ম ভঙ্গ করা। ফুটবল খেলায় কোন প্লেয়ার খেলার নিয়ম ভঙ্গ করলে, এটি ফাউল হিসেবে বিবেচিত হবে। কোন খেলোয়াড় মাঠে ফাউল করলে বিপক্ষ দলকে ফ্রি কিক দেওয়া হয়।

ফ্রি কিকঃ খেলা চলাকালীন সময়ে কোন প্লেয়ার ফাউল করলে বিপরীত দল ফ্রি কিক পাবে। ফ্রি কিক সাধারণ দুই ধরনের হয়ে থাকে। ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক ও ডাইরেক্ট ফ্রি কিক। ডাইরেক্ট ফ্রি কিক থেকে গোল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

থ্রো ইনঃ খেলা চলাকালীন সময়ে কোন খেলোয়াড়ের শরীরে লেগে কিংবা শর্ট লেগে, বল কোন কারনে ফুটবল মাঠের সীমানা অতিক্রম করলে বিপক্ষ দল থ্রো ইন পাবে।

বিপক্ষ দলের যেকোনো খেলোয়াড় মাঠের বাইরে থেকে বল হাতে নিয়ে মাঠের দিকে ছুড়ে মারবে। এরপরে যথারীতিভাবে পূর্বের ন্যায় খেলা শুরু হবে।

পেনাল্টি কিকঃ সাধারণত কোন প্লেয়ারকে বিপরীত দলের ডি বক্সের মধ্যে যদি ওই দলের খেলোয়াড় ডিরেক্ট ফাউল করে, তাহলে উক্ত দল পেনাল্টি কিক পাবে। পেনাল্টি কিকে শুধুমাত্র গোলকিপার সামনে থাকবে।

অফসাইডঃ কোন খেলোয়াড় বল ছাড়া বিপক্ষ দলের অর্ধে গমন করলে, তার সামনে যদি বিপরীত দলের ২ জন খেলোয়াড় না থাকে, ওই অবস্থায় সে নিজ দলের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বল রিসিভ করলে তখন অফসাইড হিসেবে গণ্য হবে।

অফসাইড ফুটবল খেলায় বহুল প্রচলিত একটি নিয়ম। অনেক সময় এই নিয়ম ভুলে যাবার কারণে ইজি গোল মিস হয়।

লাল কার্ড এবং হলুদ কার্ডঃ ইচ্ছা পূর্ণভাবে বিপরীত দলের খেলোয়াড়কে ফাউল করলে রেফারি হলুদ কার্ড দেখায়। এবং ফাউলের পরিমাণ যদি মারাত্মক হয় (বিপরীত পক্ষের খেলোয়াড়ের ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে) তাহলে রেফারি লাল কার্ড দেখায়।

এছাড়া ২ বার হলুদ কার্ড দেখালে পরবর্তীতে লাল কার্ড দেখানো হয়। হলুদ কার্ড এবং লাল কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত রেফারি গ্রহণ করে।

ট্রাইবেকারঃ নির্ধারিত ৯০ মিনিট খেলা শেষে যদি গোল ব্যবধান সমান থাকে তাহলে এক্সট্রা ৩০ মিনিট টাইম দেওয়া হয়। উক্ত টাইমেও যদি গোল ব্যবধান সমান থাকে তাহলে ট্রাইবেকার অনুষ্ঠিত হয়।

ট্রাইবেকারে প্রথমে উভয়দলের ৫ জন খেলোয়াড় (মোট ১০ জন) পেনাল্টি কিক নিবে। এই মুহূর্তে ডি বক্সের মধ্যে শুধুমাত্র গোলকিপার এবং পেনাল্টি টেকার থাকবে।

প্রথম ১০ কিকের মধ্যে যেই দল বেশি গোল করতে পারবে তারা বিজয়ী হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি এখানেও সমান গোল থাকে তাহলে ১ -১ করে উভয় দলের সকল প্লেয়ার কিক নিবে। যারা আগে গোল লিড এ যাবে তারা বিজয়ী হিসেবে বিবেচিত হবে।

ফুটবল খেলার মাঠের মাপ

ফুটবল খেলার মাঠের দৈর্ঘ্য ৯০-১২০ মিটার এবং প্রস্থ ৪৫-৯০ মিটার (আন্তর্জাতিক মাপ)। তবে বিভিন্ন জায়গার স্টুডিয়াম গুলোতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

বিশেষ করে মহিলা এবং বাচ্চাদের খেলার মাঠের দৈর্ঘ্য প্রস্থ বা মাঠের আকার কিছুটা ছোট হয়। এছাড়া লোকাল পর্যায়ে যেসকল খেলা হয় সেগুলোর মাঠের নির্ধারিত কোন মাপ নেই।

উপসংহার

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, আশা করি ফুটবল খেলার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। সকল খেলাধুলা প্রেমীদের জন্য ফুটবল খেলার নিয়ম জানা প্রয়োজন। ফুটবল খেলা উপভোগ করার জন্য হলেও ফুটবল খেলার সকল নিয়মকানুন ভালোভাবে জানা দরকার।

জানতে পারেনঃ সেরা ৫ টি ফুটবল খেলা দেখার অ্যাপস।

FAQs

ফুটবল খেলার জন্ম কোন দেশে?

ফুটবল খেলার জন্ম ইংল্যান্ডে। ১৯ শতকের মাঝামাঝি ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম ফুটবল খেলা হয়েছিল।

ফুটবল খেলার জনক কে?

স্যার অ্যারন উইলসন কে আধুনিক ফুটবলের জনক হিসেবে ধরা হয়। ফুটবলের ইতিহাস বহু পুরনো, চীন, মায়া, গ্রিস, রোমসভ্যতায় বল নিয়ে এইরকম খেলার প্রচলন ছিল।

একটি ফুটবল দলে কতজন খেলোয়াড় থাকে?

একটি ফুটবল দলে গোলকিপার নিয়ে মোট ১১ জন খেলোয়াড় থাকে।

অন্যান্য আর্টিকেল সমূহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *